গাজা উপত্যকায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক তদারকি সংস্থা ‘কোগ্যাট’ (COGAT) বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত জানায়। এর ফলে চরম অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের মূল সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে এক নতুন ও তীব্র মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি সংস্থা কোগ্যাটের দাবি, হামাসের অতিরিক্ত কর আদায় ও হুমকির মুখে গাজার ব্যবসায়ীরা নাকি নিজেরাই পণ্য নেওয়া বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছেন। তবে এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন গাজার বেসরকারি ট্রাক চালক ইউনিয়নের প্রধান নাহেদ শেহাইবার। তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যবসায়ীরা সরবরাহ বন্ধ করেননি; বরং ইসরায়েল নিজেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তিনি জানান, প্রতিটি ট্রাক প্রবেশের ওপর গাজার অর্থনীতি মন্ত্রণালয় প্রায় ১০ হাজার শেকেল (প্রায় ৩,২২৬ ডলার) ফি দাবি করছে—যা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে তেল আবিব। এ বিষয়ে গাজার অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি খালেদ আল-রাকাব জানান, এই অর্থ কোনো অন্যায্য কর নয়; বরং অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রশাসনিক চালিকাশক্তি ও কর্মচারীদের সচল রাখতে চাওয়া সীমিত অনুদান মাত্র।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (NRC) মুখপাত্র শায়না লো সতর্ক করে বলেন, মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর পক্ষে এক একক প্রচেষ্টায় গাজার ২০ লাখ মানুষের খাদ্যাভাব মেটানো অসম্ভব। গাজা উপত্যকা তার দৈনন্দিন টিকে থাকার রসদের জন্য পুরোপুরি সীমান্ত ক্রসিংগুলোর ওপর নির্ভরশীল, তাই বাণিজ্যিক বাজার সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, কোগ্যাটের হিসাব অনুযায়ী গাজার সাধারণ চাহিদা মেটাতে দৈনিক অন্তত ২৫০ ট্রাক পণ্যের প্রয়োজন। যদিও মার্কিন মধ্যস্থতায় সই হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ ট্রাক পণ্য ও ত্রাণ গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। বাস্তবে সেই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে এখন সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা সেখানে তীব্র খাদ্য সংকট ফিরিয়ে আনবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের পর থেকে গাজায় শুরু হওয়া অব্যাহত ইসরায়েলি বর্বরতায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর থেকেও ইসরায়েলি আগ্রাসনে আরও ১,৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। গত বছর গাজাজুড়ে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল; নতুন করে বাণিজ্যিক পণ্য বন্ধের এই পদক্ষেপ অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডকে আবারও গণঅনাহারের দিকে ঠেলে দেবে।







