গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানায় ৪ দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অতি সম্প্রতি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের টঙ্গী চেরাগ আলী কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মাত্র চার দিনের মাথায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের সফিপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানার ভবনে আগুন লাগে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি বাংলাদেশি ওষুধ শিল্পের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের বড় ছাড়পত্র দেওয়ার পরই গাজীপুরের আন্তর্জাতিক মানের ফার্মা কারখানাগুলোতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড শুরু হলো। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের পর ওষুধ শিল্পই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আত্মনির্ভরশীল ও সম্ভাবনাময় খাত। মার্কিন বাজারে বিনা শুল্কে বিশাল রপ্তানি সুবিধার মুখ দেখার ঠিক পরপরই গাজীপুর অঞ্চলে দেশের ওষুধ কারখানায় এমন পরিকল্পিত ধ্বংসাত্মক হামলা খাতটিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ে ফেলে দিচ্ছে।
টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক কারখানায় আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সব কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। কারখানার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাঈদের সই করা নোটিশে উৎপাদন স্থগিতের কথা জানানো হলেও, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। অন্যদিকে সফিপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ৬ তলা ভবনের নিচতলার স্টোরে শনিবার আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস ১ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা এবং বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পালকে গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতেই দেশের সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্প খাতে পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত বা সাবোটাজ চালাচ্ছে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা। সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর ঠিক পরপরই গাজীপুরের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে একের পর এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর অঞ্চলটিকে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসী ও দোসরদের একটি সুরক্ষিত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিগত স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট এই চক্রটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির চরম অভাব ও বর্তমান প্রশাসনের প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করার ঘৃণ্য খেলায় লিপ্ত হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেবাশীষ ও গুলশান আরার মতো কুশীলবদের গ্রেপ্তারের বদলা নিতেই দেশের একমাত্র স্বাবলম্বী রপ্তানিমুখী ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিকে টার্গেট করা হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার ও বাণিজ্য সুবিধার ঐতিহাসিক ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশের এই ক্রমবর্ধমান খাতটিকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে খুনি হাসিনার দোসররা। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে গাজীপুরের দুটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা—ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ড নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি স্পষ্টতই একটি নাশকতামূলক অর্থনৈতিক সাবোটাজ।
দেশের প্রাণঘাতী এই অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ ও নাশকতা রোধে বর্তমান প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে হবে। পতিত স্বৈরাচারের এই খুনি ও সাবোটার্স চক্রকে দ্রুত সমূলে উৎপাটন না করলে তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার নতুন কোনো চক্রান্ত থেকেও পিছপা হবে না।







