ভারতের কলকাতার উত্তর অংশে দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কের (চোরবাগান) একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপের প্রস্থানপথে এই বিপর্যয় ঘটে। কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের হঠাৎ অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ এবং বৃষ্টির কারণে মণ্ডপের বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূজামণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থানপথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। ভিড়ের চাপে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পদদলিত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠাতে পুলিশ, দমকল বাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল ও চিকিৎসক দল একযোগে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ দ্রুত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় এবং মণ্ডপের সব আলো নিভিয়ে দেয়। পূজা আয়োজকদের একজন বিকাশ দাস জানান, ঠিক কী কারণে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতার হাসপাতালে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল। পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে তদন্ত চলছে।







