গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ ও পরিকল্পিত সহিংসতার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। জাতিসংঘের এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো দুর্ঘটনাবশত নয়, বরং একেবারেই ইচ্ছাকৃত ও সুনির্দিষ্টভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি বাহিনীর এই অমানবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দৃষ্টিতে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গুরুতর যুদ্ধাপরাধের শামিল। শিশুদের ওপর এমন নিশানা বানিয়ে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় হামলার কৌশল। এতে বলা হয়, গাজায় শিশুদের ওপর হামলায় কোয়াডকপ্টার ড্রোন ও স্নাইপার ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মাথা, বুক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যা কিংবা চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো নৃশংসতা চালানো হয়েছে।
শুধু তাই নয়, আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গাজার বাস্তুচ্যুত অবোধ্য শিশুদের দিয়ে ঠাসা অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতেও ভয়াবহ ও বড় আকারের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার হতে হয়েছে নিষ্পাপ শিশুদের।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের হত্যাকাণ্ডই নয়, বরং ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর নির্যাতনের তথ্যও উন্মোচিত হয়েছে। গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে গ্রেপ্তার করা ফিলিস্তিনি কিশোর ও শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দিশালাগুলোতে অনবরত শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলে সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিশন।







