আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা উজ্জ্বল করেছেন চৌকস ক্যাডেট কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার (CSUO) রিয়াদ মাহমুদ খান। গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের কাকুলে অবস্থিত পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে (PMA) অনুষ্ঠিত ১৫৪তম লং কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে (Passing Out Parade) অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
প্রশিক্ষণকালীন সামগ্রিক বিষয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য, নেতৃত্বের দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদেশি মিত্র দেশগুলোর ক্যাডেটদের মধ্যে সেরা হিসেবে তাঁকে সম্মানজনক ‘ওভারসিজ গোল্ড মেডেল’ (Overseas Gold Medal) প্রদান করা হয়েছে। ক্যাডেট রিয়াদ মাহমুদ খান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (BMA) ৯০তম লং কোর্সের একজন সদস্য। দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ, রণকৌশল, শারীরিক সক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রতিটি পরীক্ষায় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন এই নবীন কর্মকর্তা। বিদেশি ক্যাডেটদের টপকে তাঁর এই শীর্ষ স্থান অর্জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণের মান ও পেশাদারিত্বকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।
পুরস্কার গ্রহণের পর এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় রিয়াদ মাহমুদ খান বলেন, “আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার রিয়াদ। আজ আমাকে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের ক্যাডেটদের মধ্যে সেরা হিসেবে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ওভারসিজ মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। এই সম্মান অর্জন করা এবং পাকিস্তানে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা চরম গর্বের বিষয়।”
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই ভাইয়ের মতো দেশ, যাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। পাকিস্তানের সহযোদ্ধা ভাইদের উষ্ণ আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। পাকিস্তান আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ মনে আজ একাডেমি ত্যাগ করছি, তবে নিজের দেশে ফিরে আমি পাকিস্তানের একজন অ্যাম্বাসেডর বা প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করব।”







