রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে দেশজুড়ে চরম বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে এই নির্দেশ দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের গাড়িবহর নিয়ে আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযানে যান। তাঁর ও সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের হাতে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকার ও দলের ভেতর ব্যাপক অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
প্রতিমন্ত্রীর এমন কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও দারুণভাবে বিব্রত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করে সুশাসন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফেরানোর নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রতিমন্ত্রীর এই বেআইনি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সরকারের সব অর্জনকে আড়ালে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সমালোচনার মুখে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার জন্যই তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা বৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কোনো পূর্বানুমতি বা সমন্বয় জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে পড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে দলের দুজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পদত্যাগের নির্দেশ প্রমাণ করে যে, দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।







