গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রদর্শন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ভবিষ্যতে কোনো মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে প্রয়োজন হলে অস্ত্র নয়, বরং বাঁশের লাঠি ব্যবহার করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তীব্র সমালোচনা কিংবা আইনি জটিলতা যা-ই আসুক না কেন, এলাকা থেকে মাদক নির্মূলে তাঁর এই অভিযান কোনোভাবেই থামবে না।
ফেসবুক পোস্টে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইশরাক লেখেন, “কিছু নামকরা গণমাধ্যমের নিজস্ব আইনজীবী প্যানেল দিয়ে আইনের ধারা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা নেওয়ার সামর্থ্য আছে এবং আমার বিশ্বাস তারা সে চর্চা করেও। সব জেনে-শুনে-বুঝেও তাদের খবরের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, গেন্ডারিয়ার গুন্টিঘরে মাদকের এক্সক্লুসিভ সাপ্লাইয়ার ছিলো এরা। তাই আমার অভিযানের পর তারা বন্য পশুর মতো আচরণ করছে।”
নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাথে বৈধ অস্ত্র রাখা হয়েছিল দাবি করে ইশরাক হোসেন আরও জানান, ভবিষ্যতে এলাকার মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে বাঁশের লাঠি ব্যবহার করা হবে। এতে পুলিশ প্রশাসন দাঁড়িয়ে দেখবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জের ধরে ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জোর গুঞ্জন চলছে। তবে এই নির্দেশনার মধ্যেও সামাজিক মাধ্যমে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।







