রাজশাহীতে তাঁর তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজা। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কেন ধর্মীয় তাফসির মাহফিলে বাধা দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তিনি।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুফতি আমির হামজা এই ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের তাফসির মাহফিল বন্ধ ও ওয়াজ-নসিহতে বাধা দেওয়ার বহু অভিযোগ ছিল। কিন্তু দেশজুড়ে এত বড় পরিবর্তনের পরও কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি সম্বোধন করে জামায়াত নেতা আমির হামজা লেখেন, কোন আইনি, সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব কারণে প্রশাসন একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করল, তা অবিলম্বে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। নিরাপত্তার কোনো অস্পষ্ট অজুহাত দেখিয়ে নাগরিকদের ধর্মীয় সমাবেশের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হলে সেই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সরকারকে নিশ্চিত করতেই হবে।
ইসলামী আলোচনার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, রাজনীতি কি পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাইরে? রাষ্ট্র পরিচালনা, সমাজ সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরোধিতা ও মানুষের অধিকার রক্ষা করা তো কোরআনেরই প্রধান শিক্ষা। অন্যায়ের প্রতিবাদ বা সামাজিক অসংগতি নিয়ে কথা বলাকে যদি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে মাহফিল বন্ধ করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
সাবেক স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সাথে তুলনা টেনে তিনি কঠোর সুর উচ্চারণে বলেন, “সরকার পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও দমনমূলক পদ্ধতিতে কি সত্যিই কোনো পরিবর্তন এসেছে?” এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত সংশোধন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সাথে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই সংসদ সদস্য।







