মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন ও সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পদত্যাগের খবর চাউর হলে প্রতিমন্ত্রী নিজেই গণমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এ ধরনের খবরের কোনো সত্যতা নেই। যদি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত সত্যিই নেওয়া হয়, তবে তা কোনো উড়ো খবরের মাধ্যমে বা গোপনীয়ভাবে আসবে না; বরং তা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে। সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় বৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সেই অভিযানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সরকার ও দলের ভেতরে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁকে ‘এই ধর ধর ধর…’ বলে চিৎকার করতে এবং হাতে অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। যদিও পরে সেই ভিডিওটি তাঁর পেজ থেকে ডিলিট করা হয়।
সমালোচনার মুখে রোববার প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তারের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের ব্যাপক বিস্তার রোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ বা গোপন আস্তানা থেকে হামলার আশঙ্কা ছিল। কর্মসূচি চলাকালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে এলে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থেই কেবল লাইসেন্সকৃত অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তা আবার সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অভিযان শেষে তাৎক্ষণিকভাবে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই সন্দেহভাজন কয়েকটি মাদকের আস্তানা থেকে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই অভিযানের বিষয়ে তারা আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয় বা তথ্য জানত না। বর্তমানে এ ঘটনার আইনি দিক খতিয়ে দেখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে।







