মতপার্থক্য থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার নেটওয়ার্ক-১৮ গ্রুপের প্রধান সম্পাদক রাহুল জোশিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রুবিও। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার বিরোধিতা করে। তবে পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।
রুবিও বলেন, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন অনেক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি ভারতের উদাহরণও তুলে ধরেন। রুবিও বলেন, ভারত সরকারকেও ইরানের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা নয়। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে রুবিওর বক্তব্য ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।







