যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ‘ফাদার অব অল বোম্ব’ (Father of All Bombs) নামে এক বিধ্বংসী ও নতুন মারণাস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেবি এ ঘোষণা দিয়ে জানান, এই নতুন অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও নজিরবিহীন এক বিস্ময় হতে যাচ্ছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে অস্ত্রটির ধরন বা কৌশলগত বিশদ বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি।
আইআরজিসি মুখপাত্র জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের পর ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও মজুত অভূতপূর্ব মাত্রায় বাড়িয়েছে। ওই যুদ্ধের পর তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত অন্তত ১.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা, পাল্লা এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের (Precision-guided) ক্ষমতা লক্ষণীয়ভাবে উন্নত করা হয়েছে।
তেহরানের বর্তমান প্রতিরক্ষানীতি পুরোপুরি পাল্টে ফেলা হয়েছে জানিয়ে মোহেবি বলেন, ইরান এখন স্থায়ী ও নিরঙ্কুশ সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন—অতীতে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল কেবল ‘রক্ষণাত্মক’, অর্থাৎ হামলার শিকার হলে তবেই পাল্টা জবাব দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন নীতি অনুযায়ী, শত্রুপক্ষ হামলা চালালে ইরান কেবল প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অবিলম্বে সরাসরি বিধ্বংসী ‘আক্রমণাত্মক’ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সামরিক কৌশলের এই আমূল পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, তেহরান এখন আর কেবল প্রথাগত আক্রমণ চালাবে না; বরং তাদের নতুন কৌশল হবে ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) ভিত্তিক। এর মূল কথা হলো—যেকোনো আগ্রাসনের সমপরিমাণ ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং শত্রুর দুর্বলতম স্থানে এমন তীব্রতার সাথে আঘাত হানা হবে, যাতে তারা প্রতিক্রিয়ার ভয়াবহতা হাড়ে হাড়ে টের পায়।
ইরানের এই হুমকির পটভূমিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানের আন্ডারগ্রাউন্ড পারমাণবিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অফ অল বম্বস’ (GBU-43/B MOAB) ব্যবহার করা হতে পারে। প্রায় ৯,৮০০ কেজি (২১,৬০০ পাউন্ড) ওজনের এই দানবীয় বোমাটি প্রথমবার ২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানে আইএসআইএস-এর সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে প্রথম প্রয়োগ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়। যদিও এর আগে জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কিন্তু কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে দ্বিমত তৈরি হওয়ায় সেই শান্তি আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়।







