ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এসব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণে বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু স্থাপনা পুনরায় চালু করা হবে, নাকি স্থায়ীভাবে পরিত্যাগ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ব্রেকিং ডিফেন্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পর্যালোচনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে কোন ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে, তা নির্ধারণের কাজ করছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা মোকাবিলায় এসব স্থাপনার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে কতটা ব্যয় হবে এবং ভবিষ্যতে এসব ঘাঁটি কতটা নিরাপদ রাখা সম্ভব—তা এখন পেন্টাগনের বিবেচনায় রয়েছে।
কাতার, সৌদি আরব ও বাহরাইনে ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত কম্বাইন্ড এয়ার অপারেশনস সেন্টার হামলার কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই কেন্দ্র থেকে আঞ্চলিক বিমান অভিযান সমন্বয় করা হয়।
এ ছাড়া সৌদি আরব ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি স্থাপনাটি এখনো ব্যবহার অনুপযোগী রয়েছে।
পুনর্নির্মাণের ব্যয় এখনো নির্ধারণ হয়নি
ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো মেরামত ও পুনর্নির্মাণে মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি। ফলে সামরিক স্থাপনাগুলো পুনরায় চালু করা এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আর্থিক দিকটি এখনো পর্যালোচনাধীন।
একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষা জোরদারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। কোন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করা হবে আর কোনটি পরিত্যক্ত থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।







