১৭ বছর আগে ২০০৯ সালে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে সহায়তার অভিযোগে সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের চরম ক্ষোভের শিকার হতে হয়েছিল তৎকালীন চ্যান্সারি প্রধান মো. দাউদ আলীকে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সলর পদ থেকে তাকে তড়িঘড়ি করে ঢাকায় তলব ও চাকরিচ্যুত করার চক্রান্ত চালিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন সেই তারেক রহমানই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায়, তখন সেই একই দাউদ আলীর ওপর নেমে এলো ঠিক একই ধরনের খড়্গ। জামায়াতে ইসলামীর সাথে কথিত ‘সংশ্লিষ্টতার’ অবাস্তব অজুহাতে এবার তাকে তারেক রহমানের টোকিও সফর থেকে পুরোপুরি দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
বর্তমানে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. দাউদ আলী। কোনো দেশের সরকারপ্রধান বা শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সফরের ঠিক আগেভাগে স্বাগতিক দেশের দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূতকে এভাবে মূল আয়োজন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা কূটনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত নজিরবিহীন ও চরম অপমানজনক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দাউদ আলীকে জাপানে তারেক রহমানের পুরো সফর কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গত ১৬ই অক্টোবরের মধ্যে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। ঢাকায় আসার পর তাঁকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তারেক রহমানের জাপান সফর পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি টোকিওতে ফিরতে পারবেন না এবং তাকে বাংলাদেশেই অবস্থান করতে হবে।
রাষ্ট্রদূতের এমন আকস্মিক অনুপস্থিতিতে টোকিওতে সফরের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি সামলাতে তাড়াহুড়ো করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে জাপানে পাঠায় সরকার। সফর শেষ হওয়ার পর দাউদ আলী কেবল তাঁর বিদায়ী আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার জন্য সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য টোকিও ফেরার অনুমতি পাবেন, যেখানে আগামী ২৭ ডিসেম্বর তাঁর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে।
যে কূটনৈতিক কর্মকর্তা ১৭ বছর আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং নিজের ক্যারিয়ার বাজি রেখে লন্ডনে তারেক রহমানকে সহমর্মিতা ও কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার কারণে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের রোষাণলে পড়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই একই ব্যক্তির সঙ্গে তারেক রহমানের বর্তমান সরকারের এমন বিমাতাসুলভ আচরণ নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চরম অকৃতজ্ঞতা এবং পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক নতুন নজির হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল।







