রাজধানীর দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হলেও, পার্বত্য অঞ্চল সাজেকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফের প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় তথাকথিত ‘সুশীল পাড়া’র নীরবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের সচেতন নাগরিক ও ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, তথাকথিত ‘কালচারাল সেক্যুলার’ গোষ্ঠীটি বাস্তবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক প্রকার দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে (গ্রাফিতি) চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় তড়িঘড়ি করে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিবসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও চরম ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে পাঠানো হয়। অথচ এর বিপরীতে পাহাড়ে সেনাবহর ও ৩ হাজার নিরাশ্রয় পর্যটকের জীবন বিপন্ন করে চালানো ইউপিডিএফের তাণ্ডব নিয়ে সেই একই সুশীল সমাজ সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় উগ্র সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ সড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় আটকে পড়া পর্যটক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল দলকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণ করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর দৃঢ় ও পাল্টা গুলিবর্ষণের মুখে সন্ত্রাসী দল গহিন জঙ্গলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, শিল্পের নামে একটি প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র চরম অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি আইসোলেশনে পাঠানো হলেও, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী এবং সাধারণ পর্যটকদের রক্ত ঝরানোর চক্রান্তে সুশীল সমাজের কোনো উদ্বেগ বা প্রতিবাদ নেই। এই ধরনের পক্ষপাতমূলক ও চরম দ্বিমুখী অবস্থানকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং মূলধারার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী চেতনার পরিপন্থী হিসেবেই আখ্যা দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।







