ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অরাজকতা, অনিয়ম এবং ভোট কারচুপির নানা অভিযোগ সামনে আসায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মনে ১৯৯৪ সালের বিএনপি সরকারের আলোচিত ‘মাগুরা মডেল’-এর কালো অধ্যায় ফের স্মরণে আসছে।
ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকেই বেশ কিছু কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য, অথচ ব্যালট বাক্সে আগে থেকেই সিল মারা ভোট জমা হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক নির্বাচন কর্মকর্তার গলায় ছবিযুক্ত বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে “ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে” এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এমনকি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বহিরাগতরা ভুয়া ভোটার সেজে ভোট দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা ও জালিয়াতির দৃশ্য সরাসরি সাধারণ মানুষকে ১৯৯৪ সালের মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনের নজিরবিহীন কারচুপির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনে তৎকালীন শাসকদল বিএনপির নজিরবিহীন কারচুপির বিরুদ্ধেই মূলত দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে তীব্র গণবিস্ফোরণ ও গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারকে শেষ পর্যন্ত গণদাবির মুখে নতিস্বীকার করতে হয়েছিল।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রশাসন ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের অধীনে আবারও যদি সেই “মাগুরা মার্কা” প্রহসনের নির্বাচন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, তবে তার পরিণতিও ভালো হতে পারে না। সময়ের ব্যবধানে এবার জনগণ ও রাজনৈতিক ইতিহাস কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।







