তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তৈরি করা প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া গেলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বিস্তারিত সুরতহাল প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে টঙ্গীর রাজাবাড়ী খেয়াঘাটের কাছ থেকে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পুলিশ নিহতের শারীরিক অবস্থা পরখ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে।
প্রতিবেদনে মরদেহের বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, নিহতের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, মাথায় কালো চুল এবং মুখে ছোট কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময়ে চোখ-মুখ বন্ধ অবস্থায় ছিল এবং নাক থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। তাঁর দুটি হাতই কপালের দিকে বাঁকানো, মুষ্টি খোলা এবং পেট ফোলা ছিল।
সুরতহাল প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের বুক, পেট, পিঠ ও পা-সহ অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে শরীরের কোথাও বাহ্যিক কোনো জখম বা আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল না। উদ্ধারের সময় তাঁর পরিধানে একটি কালো হাতাওয়ালা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার ছিল।
নৌ-পুলিশের দেওয়া তথ্য ও প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাহসিফের হাতে একটি হাতঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ওই আইফোনের সহায়তায়ই পুলিশ দ্রুত তাঁর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে রাজাবাড়ী ঘাটের কাছে নদে লাশ ভাসার খবর দেন স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।







