বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির অ্যাক্টিভিস্টদের একটি অংশ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এই ঘটনার সাথে জামায়াতকে জড়ানোর চেষ্টা চালালে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
তারা বিশেষ করে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত “বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরের ‘র’ নেটওয়ার্ক ফাঁস” শিরোনামের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ সামনে আনছেন। তবে অনুসন্ধান ও পেছনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপির অ্যাক্টিভিস্টদের এই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকাশিত অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত ওই নিউজটির নেপথ্যে থাকা সাংবাদিকদের পরিচয়ই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। ওই নিউজটি করেছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক ও কট্টর বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ।
ঘটনার পর পর ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করার পরই এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বিশেষ পুরস্কৃত করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাকে সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির বিরুদ্ধে সরাসরি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (র) সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, কোনো গোয়েন্দা বা দেশের স্বার্থবিরোধী সংশ্লিষ্টতার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।
আইএসপিআরের এই স্পষ্ট বার্তার পর এটি পরিষ্কার যে, ঘটনার নেপথ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘তৃতীয় পক্ষ’ সক্রিয় ছিল। সেই কুচক্রী মহলই আমার দেশ পত্রিকাকে মনগড়া ও ভুল তথ্য সরবরাহ করে সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদকে দিয়ে খবর প্রকাশ করায় এবং তাহসিফের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে।
মূলত হাসিনাবিরোধী ও ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করে তোলপাড় ফেলা তাহসিফ প্রথম থেকেই ওই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মূল টার্গেটে ছিলেন। শুরুতেই ভুয়া খবরের মাধ্যমে তার ইমেজ নষ্ট করার পর অবশেষে তাকে গুম ও পরবর্তীতে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয় বলে মনে করছেন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকেরা।







