বান্দরবান ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ সময় আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং প্রচুর পরিমাণ বই জব্দ করা হয়।
উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জব্দকৃত বইগুলোর বড় একটি অংশে বামপন্থী রাজনৈতিক দর্শন, মার্কসবাদী তত্ত্ব এবং প্রগতিশীল ইতিহাসচর্চার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযান চলাকালে উদ্ধার হওয়া বইগুলোর মধ্যে কার্ল মার্ক্স, জোসেফ স্ট্যালিন ও ভ্লাদিমির লেনিনের জীবনী, রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্রচিন্তাবিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থ রয়েছে।
পাশাপাশি ইতালীয় প্রখ্যাত মার্কসবাদী চিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামসি এবং দেশের বিশিষ্ট বামপন্থী বুদ্ধিজীবী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা বইও ওই আস্তানা থেকে জব্দ করা হয়।
একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সুসংগঠিতভাবে বামপন্থী রাজনৈতিক দর্শন চর্চার দৃশ্যমান প্রমাণ মিলল এই অভিযানের মাধ্যমে।
বিশ্লেষকদের একটি মহলের মতে, পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশের মূলধারার বামপন্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর আদর্শগত সংযোগ থাকতে পারে।
অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি বা বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে পিসিপি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের মতো বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক আন্দোলন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উভয় পক্ষের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে মিল থাকার কারণেই কি এই ছাত্র সংগঠনগুলো পাহাড় থেকে সেনা হটানোর আন্দোলনে সোচ্চার থাকে—এমন জল্পনা-কল্পনাও এখন রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।







