চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই সময়ে ব্যাংকটি কর-পরবর্তী নিট লোকসান গুনেছে ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।
অথচ এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকার মুনাফা করেছিল। হঠাৎ করে এই বিশাল অঙ্কের লোকসানের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি নড়ে গেছে।
এই রেকর্ড লোকসানের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির সম্পদের ওপর। এর ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মোট সম্পদের মূল্য কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির একক নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি (NAV) দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায়। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই এনএভি ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা।
এছাড়া সমন্বিত বা কনসোলিডেটেড হিসাবে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য ৭ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ টাকা থেকে কমে অর্ধেকে নেমে ৩ হাজার ৮০৬ কোটি ৫ লাখ টাকায় ঠেকেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে অতীতে সংঘটিত সুপরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল করে।
এরপর গত সাড়ে ৭ বছরে ব্যাংকটির বিভিন্ন খাত থেকে নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এস আলম গ্রুপ। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের প্রায় পুরোটাই পরবর্তীতে খেলাপি হয়ে পড়ে।
অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এস আলম গ্রুপ।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্যাংক পরিচালনায় দক্ষ স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এই ব্যাংকের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করছে। তবে এস আলম আমলের রেখে যাওয়া পর্বতপ্রমাণ দুর্নীতির জঞ্জাল সামাল দিতে গিয়ে ব্যাংকটিকে এখন এই নজিরবিহীন লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে।






