সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার প্রত্যন্ত দৌলতপুর গ্রামে ১৯৭১ সালের একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী দুলাল মিয়ার বসতবাড়ি ও দোকানে মধ্যরাতে নৃশংস হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দুলাল মিয়ার পরিবারের সদস্য ফাতেমা বেগম, ফরিদা বেগম, রোকেয়া বেগম এবং দুই শিশু। শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোকতাদির আহমদ জানান, তিন নারী ও এক শিশু আহত অবস্থায় সেখানে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দুলাল মিয়ার বাবা মামুদ আলীসহ এই পরিবারের মোট সাতজন স্বজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। দুলাল মিয়া ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল তোতা টেইলার্স ও জলিল মিয়াসহ পাঁচজনকে, যাদের বিরুদ্ধে ৩৪ জনকে হত্যা, ৫ নারীকে ধর্ষণ, ৩১ জনকে অপহরণ এবং গৃহদাহের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আসামি পক্ষ তাঁদের ওপর নানা চাপ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। গ্রামের অন্যান্য সাক্ষীরা ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কেবল দুলাল মিয়ার পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৩ অক্টোবর দুলাল মিয়ার দোকানে একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই চুরির তদন্তে গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শাল্লা থানা পুলিশ গ্রামে গেলে যুদ্ধাপরাধের আসামিদের আত্মীয় ও সমর্থকেরা পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে দুলাল মিয়ার পরিবারের ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও বাদানবাদে জড়ায়।
পুলিশ গ্রাম ছেড়ে প্রস্থান করার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি তোতা টেইলার্সের ভাতিজা জালাল মিয়ার নেতৃত্বে তোফাজ্জল, শাহিন, হেকিম মড়লসহ ১৫-২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুরো বসতঘর ও দোকান ভাঙচুর করে নগদ ৪ লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৪টি ফ্রিজ এবং ৬টি গরু লুট করে নিয়ে যায়।
দুলাল মিয়ার কন্যা উজ্জ্বলা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে নারী সদস্যদের ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায় এবং তাঁকে ও তাঁর ১২ বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের অপচেষ্টা করে। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য এই বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করা।
হামলার পর থেকে মামলার মূল সাক্ষী দুলাল মিয়া নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম। নিখোঁজ দুলাল মিয়ার খোঁজে আকুল পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলা ও ভাঙচুরের আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার দিনেও হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের উচ্চবাচ্য হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।







