তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন ও পোস্ত (পপি) চাষে এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে জাতিসংঘ। ২০২১ সালে তালেবান দেশটির ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে মাদক কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে দেখা গেল।
গত ২৯ অক্টোবর (২০২৬) জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় আফগানিস্তানে পপি চাষ হওয়া জমির পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে ৩৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চাষের জমি ১০ হাজার হেক্টর থেকে এক লাফে বেড়ে ৪৩ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে আফিম তৈরির মূল উপাদান বা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বিরাজমান চরম অর্থনৈতিক সংকট, ব্যাপক দারিদ্র্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আফিমের অবৈধ চাহিদাই এই লাফিয়ে বাড়ার প্রধান কারণ।
UNODC-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনিকা জুমা এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র কৃষকদের জন্য বিকল্প ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা না গেলে এই ধরনের অবৈধ পপি চাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই তালেবান সরকার দেশজুড়ে আফিম উৎপাদন ও পপি চাষ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগ পর্যন্ত আফগানিস্তান ছিল বিশ্বের বৃহত্তম আফিম উৎপাদনকারী দেশ এবং ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে হেরোইন সরবরাহের প্রধান উৎস।
তবে সাম্প্রতিক এই বিপুল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রবণতাটি সাময়িক কোনো ধাক্কা নাকি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিচ্ছে—তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।







