চট্টগ্রামের পটিয়ায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকা এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে তিন দফায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন—সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা মো. সুজন, যুবদল নেতা মো. আমজাদ এবং ছাত্রদল নেতাকর্মী জাহাঙ্গীর, টিপু, আজাদ, ইরফান, শুভ, বোরহান, রায়হান, মাশফি, আফজল, রাফি ও আরফান। এদের মধ্যে গুরুতর আহত যুবদল নেতা সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত তিন দিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় স্থানীয় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ইরফান নামের এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়।
এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন ওই কিশোরকে ডেকে এনে শাসিয়ে দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান যুবদল নেতা মো. আমজাদ। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুজন মেম্বারের লোকজন আমজাদকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন।
এই প্রাথমিক মারধরের ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আমজাদের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে ইউপি সদস্য সুজনসহ ৪-৫ জনকে বেধড়ক মারধর করেন।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় সুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় হাসপাতালের প্রবেশমুখে আমজাদের পক্ষের লোকজন আবারও তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাসপাতালেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায় এবং মোট ১৩ জন আহত হন। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা আমজাদ জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীনের অনুসারী। অন্যদিকে ইউপি সদস্য সুজন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি হুলাইন পাইরোল উচ্চবিদ্যালয়ের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. হাদী জানান, ইউপি সদস্য সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করার সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পটিয়া থানাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এছাড়া মারামারিতে আহত অন্তত ১০ জন পটিয়া হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীন দাবি করেন, প্রথমে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের লোকজন এসে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের লোকজনকে মারধর করেছিলেন। তারই প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীতে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, দুই পক্ষের মারামারির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।







