খুলনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আগামী কেসিসি নির্বাচনের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে (৪৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে তাঁর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যানটিনে’ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমায়ুন কবির ওই এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি বিগত খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং আগামী নির্বাচনেও একই পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল ইজিবাইকে এসে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুন কবিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতে ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব জানান, ছাত্রদল নেতা আরাফাতের সঙ্গে তাঁর চাচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। আরাফাত পূর্বেও একাধিকবার তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে দোকানে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিমুর রহমান জানান, ছাত্রদল নেতা আরাফাতের ইলেকট্রনিকসের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে কয়েক মাস আগে কিস্তিতে একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন হুমায়ুন কবির। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করায় তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ তৈরি হয়। রবিবার সন্ধ্যায় কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় জানান, পাঁচ-ছয়জন হামলাকারীর মধ্যে একজনের মুখ ঢাকা ছিল। প্রাথমিকভাবে কিস্তির টাকা না দেওয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেলেও এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা রাজনৈতিক কোন্দল আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।







