কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (কম্পিউটার) মো. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ওই জাল সনদের ভিত্তিতেই তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে চাকরিতে বহাল থেকে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করে আসছেন।
সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্তে নেমে প্রয়োজনীয় সনদ ও মূল নথিপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সহকারী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের সনদ জালিয়াতির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেয় মাউশি রংপুর অঞ্চল। এই তদন্তে নেতৃত্ব দেন রংপুর অঞ্চলের পরিচালক (কলেজ)। তদন্ত কার্যক্রমে তাঁকে সহায়তা করেন ওই কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।
তদন্ত শেষে গবেষণা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জানান, তদন্তকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে তাঁর সনদের মূল কপি ও চাকরির স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কোনো প্রকার নথিপত্রই উপস্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। তিনি আসন্ন ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি নেতা হওয়ার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
জাল সনদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষক জয়নাল আবেদীন দাবি করেন, “আমি জাল সনদে চাকরি করি না। আমাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে বেকায়দায় ফেলতেই অধ্যক্ষ এমন চক্রান্ত করছেন। আমি এখন বাইরে আছি, এ বিষয়ে পরে সরাসরি কথা বলবো।”







