শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে প্রকাশ্যে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনা শুরু হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) সকালে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অপুর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোক, তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে শরীয়তপুরে অবাঞ্ছিত করা হবে।” এ সময় তিনি দাবি করেন, জেলা বিএনপির নেতারা দুই-এক দিনের মধ্যে টিপু মাদবরকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে আমান মাদবরের এমন হুমকির পরদিন সোমবার রাতে স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপি নেতা টিপু মাদবর। পাল্টা বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় আমার ছবি পুড়িয়ে ঘাড় নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে গত ১৭ বছর আমার নেতৃত্ব ছাড়া শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল বের করার সাহস পায়নি।” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনটা যুদ্ধে কেটেছে, কেউ আমাকে যুদ্ধের হুংকার দেবেন না।” শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিটি জনস্বার্থের উল্লেখ করে তিনি জানান, এতে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
উত্তেজনাপূর্ণ এই বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। আর হুমকির ভিডিওটি তাঁর নজরে এসেছে জানিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেছেন, এই বিষয়ে তিনি খুব দ্রুত যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে টিপু মাদবরের নেতৃত্বে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট পদ-পদবি ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের এই প্রকাশ্য কোন্দল এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।







