জুলাই অভ্যুত্থানের সময় প্রোফাইল পিকচার লাল করার অপরাধে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাইয়ান বাতেনকে নিয়ে একের পর এক মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে ফ্যাসিবাদের দোসর ও দেশের একাংশের মূলধারার গণমাধ্যম। তাঁকে কখনো ‘লাল বদর’, কখনো জামায়াত সমর্থক, আবার কখনো সাবেক শিবির নেতা হিসেবে জোরালোভাবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে পলাতক মুজিবপন্থী কর্মী ডেভিড আরিফের হাত ধরে। অনলাইনে এই গুজব প্রথম ছড়িয়ে দেওয়ার পর তা হুবহু কপি-পেস্ট করে প্রচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কর্তৃক পরিচালিত ‘দ্য ডেইলি ডাকসু’।
এরপর সত্যতা যাচাই না করেই সেই ভুয়া তথ্য লুফে নেয় দেশের বেশ কিছু চিহ্নিত গণমাধ্যম ও পোর্টাল। চ্যানেল আই, চ্যানেল ওয়ান, মোহনা টিভি, কালের কণ্ঠ, বার্তা বাজার এবং চরমোনাইর পোর্টাল ‘দশদিক’ একই হেডলাইনে এই ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ ও শেয়ার করে।
শুধু মূলধারার গণমাধ্যমই নয়, এই অপপ্রচারে কোমর বেঁধে নামে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম এবং মাদকাসক্ত শাহবাগী শোয়েব মাহমুদও। তারা সম্মিলিতভাবে রাইয়ান বাতেনের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও চরিত্রহননে অংশ নেয়।
রাইয়ান বাতেনের আসল পরিচয় হলো—তিনি বুয়েটের পাট চুকিয়ে ২০১৬ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং বর্তমানে মার্কিন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অত্যন্ত সম্মানজনক পদে কর্মরত আছেন। জুলাই আন্দোলনে শুধু সংহতি জানানোটাই তাঁর একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল।
অবশ্য তীব্র সমালোচনার মুখে চ্যানেল আই পরবর্তীতে তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি মর্মে একটি দায়সারা ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এত বড় একটি মিথ্যা ও জীবনধ্বংসী গুজব ছড়িয়ে মানুষকে হয়রানি করার পরও তাদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়া হয়নি।






