বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে ভারত ও চীনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে যে সীমিত বরফ গলতে শুরু করেছিল, সাম্প্রতিক এই মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনায় তা আবারও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ল।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধানের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক সংবেদনশীল স্থানে ভারত ও চীনের সেনারা একেবারে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। মূলত ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সীমান্তে এই থমথমে ও বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান আরও অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী প্রাথমিক আলোচনার পর চীনা সেনারা সাময়িকভাবে পিছু হটলেও, পরবর্তীতে বড় ধরনের প্রস্তুতি ও বাড়তি সেনা বহর নিয়ে পুনরায় ফিরে আসে। শুধু তা-ই নয়, চীনা বাহিনী ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে নিজেদের তাঁবু ও অস্থায়ী সামরিক কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
তবে নয়াদিল্লির এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) সীমান্তে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে স্বাভাবিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সীমান্ত সংক্রান্ত সব চুক্তি ও প্রটোকল মেনেই কাজ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বরফ গলাতে দুই দেশই কূটনৈতিক স্তরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একাধিক বৈঠক, সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং ভিসা সংক্রান্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মাধ্যমে স্বাভাবিকতার পথে হাঁটার চেষ্টা চলছিল। তবে অরুণাচল সীমান্তে চীনের এই আগ্রাসী পুন অবস্থান সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আবারো অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।







