প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির মুখে কালো কালি লেপে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং উগ্র সাম্পদায়িক বিদ্বেষের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে একদল অজ্ঞাতরা এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে নগরীর শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন পুরাতন যশোর রোডের পাশের দেয়ালে এই দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের নজরে আসে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ও জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে রেলস্টেশনের প্রতিরক্ষা দেয়ালে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল। চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, কাজী নজরুল ইসলাম, ফকির লালন সাঁই, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও সেখানে স্থান পায়। তবে সব ছবি অক্ষত রেখে কেবল রবীন্দ্রনাথের প্রতিচ্ছবিকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে চুনকালি মাখিয়ে দেওয়া হয়।
শুধু মুখমণ্ডল কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া নয়, ওই গ্রাফিতির ঠিক পাশেই ‘রঠা’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) বিরোধী রাজনৈতিক লিফলেট ও পোস্টার সাঁটিয়ে দিয়েছে দু। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামের ওই লিফলেটে লেখা রয়েছে: “তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই”।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও জড়িতদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে।
অন্যদিকে, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে চরম সংকীর্ণ মনস্তত্ত্ব ও মুক্তচিন্তার ওপর চরম আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। এর আগে গত অক্টোবরেও ঢাকায় একইভাবে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে চুনকালি লেপনের পর চারজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল।







