১৫ আগস্টের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি অবহেলা ও অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অন্যদিকে, ৭ নভেম্বরকে তিনি সিপাহিদের নেতৃত্বে সংঘটিত একটি বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংহতি প্রকাশ করেছিল।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বক্তব্যে ১৯৭২ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করে জনগণের ম্যান্ডেট হারিয়েছিল। একই সঙ্গে রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার ফলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ওই সময়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবমূল্যায়ন ও অপমান করা হতো। এমনকি এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনাও ঘটেছিল। এ ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরি হারাতে হয়। তার মতে, এ ধরনের নৈরাজ্য ও অসন্তোষের পরিণতিতেই ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এ সময় সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে তাকবির ধ্বনির মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, সিপাহি ও জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই ঘটনাই পরবর্তী সময়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।






