ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস দুই বছর ধরে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আধুনিক অস্ত্রের মুখোমুখি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ এ যুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও ইসরাইলও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ—অনেকে হারিয়েছেন স্বজন, কেউ সন্তান, কেউবা স্ত্রী, স্বামী, বাবা, ভাই কিংবা বোনকে। এখনও হামাসের হাতে কয়েকজন ইসরাইলি বন্দি রয়েছেন।
এই বন্দিদের মুক্তির দাবিতে তাদের পরিবারগুলো যুদ্ধের শুরু থেকেই বিক্ষোভ করে আসছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এসব পরিবার দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মূল্য পরিশোধকারীদের অন্যতম হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইলি সমাজে দেখা দিয়েছে গভীর বিভাজন। অনেক নাগরিকই দেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তেমনই একজন মোর গডার্ড, যিনি হামাসের নেতৃত্বে গাজা সীমান্তে কিব্বুটজে হামলার সময় প্রাণে বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন বাবা-মাকে। নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি দেশের ওপর ও সেনাবাহিনীর প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছি। আমাদের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কেউ আমাদের রক্ষা করতে আসেনি।”
যুদ্ধের প্রভাবে ইসরাইলের নাগরিকদের পাশাপাশি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরকার বন্দুকের লাইসেন্স সহজ করে দেয় এবং অনেক বেসামরিক নাগরিককে আগ্নেয়াস্ত্র দেয়। এর ফলে দেশে পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। ইসরাইলের সমাজকল্যাণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন বন্দুক আইন নারীদের আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অন্যদিকে গাজা থেকে ফিরে আসা বহু তরুণ সেনা গুরুতর মানসিক আঘাত (ট্রমা) নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সহকর্মীদের মৃত্যুর দৃশ্য তাদের তাড়া করে ফিরছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। ইউরোপজুড়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। ইসরাইলি নাগরিক ও ইহুদিদের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ইসরাইলি অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্র জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া চলছে।







