বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন সম্প্রতি ব্যারিস্টার নুসরাত খানকে বাগদান দিয়েছেন, যার পিতা নূর মোহাম্মদ খান—জিয়াউর রহমান সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তবে এই বাগদানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে, কারণ নূর মোহাম্মদ খানকে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নূর মোহাম্মদ খান ছিলেন চীনপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন। স্বাধীনতার পর তিনি দীর্ঘ সময় এলাকায় পলাতক ছিলেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জানা যায়।
১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তবে রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে তিনি বহুবার দলবদল করেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আবার বিএনপিতে ফিরলেও দলীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেননি।
নূর মোহাম্মদ খানের কন্যা ব্যারিস্টার নুসরাত খান বর্তমানে আইন পেশায় যুক্ত। ইশরাক হোসেনের সঙ্গে তার বাগদান সম্পন্ন হয়েছে গতকাল শুক্রবার রাতে পারিবারিকভাবে।
রাজনৈতিক মহলে কেউ কেউ বলছেন, “একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রীর মেয়েকে বিয়ে করা অপরাধ নয়,” তবে আবার অনেকেই ইশরাকের রাজনৈতিক অবস্থান ও তার শ্বশুরের বিতর্কিত অতীত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইশরাক হোসেন এখনো বাগদান বা পারিবারিক বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।







