রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র ফারুক হত্যা মামলায় সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। এই রায়ে প্রমাণিত হলো—বছরের পর বছর ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে চালানো মিডিয়া ট্রায়াল ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ফারুক হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই ঘটনাকে পুঁজি করে শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও দমন অভিযান চালানো হয়েছিল। তৎকালীন সরকার ও দলীয় ছাত্র সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডকে শিবিরবিরোধী প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সারাদেশে শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়, বহুজন নির্যাতনের শিকার হন।
কিন্তু আদালতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর দেখা গেল—সাক্ষী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউই কোনো আসামির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে পারেননি। সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) কানিজ ফাতিমা বলেন, “১০৫ জন আসামির মধ্যে ৫–৬ জন মারা গেছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আদালত সবাইকে খালাস দিয়েছেন।”
এ রায় প্রকাশের পর সমাজের বিভিন্ন মহল বলছে, ফারুক হত্যাকাণ্ড ছিল একটি পরিকল্পিত স্যাবোটাজ—যার মাধ্যমে একটি ইসলামী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।
পর্যবেক্ষকরা বলেন, “যে গণমাধ্যমগুলো ফারুক হত্যাকাণ্ডের পর শিবিরকে দোষারোপে সরব ছিল, তারা এখন রায়ের পর নীরব। এটি শুধু অন্যায্য নয়, সাংবাদিকতার নীতিরও পরিপন্থী।”
দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে একটি বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সত্য উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছে ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ সংশ্লিষ্ট মহল।







