বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি ৯ অক্টোবর তামাবিল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে পরিবারসহ অবস্থান করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কয়েকজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর থেকেই মেজর জেনারেল কবীরের অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মেজর জেনারেল কবীরকে ‘অবৈধভাবে অনুপস্থিত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তিনি না জানিয়ে ছুটিতে গেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।” সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল যাতে তিনি দেশত্যাগ করতে না পারেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “একজন কর্মরত জেনারেল কীভাবে দেশ ছাড়তে পারলেন—এ প্রশ্নের জবাব সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আসা উচিত। যারা এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও খুঁজে বের করা প্রয়োজন।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামানও বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তা সত্যিই বিদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকেন, তবে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ ধরনের ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে জানা দরকার—কীভাবে এবং কার সহযোগিতায় এটি ঘটেছে।”
বাংলাদেশে বর্তমানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
