বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছেন। এই সনদকে তারা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাম ঘরানার চারটি দল অনুপস্থিত থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরাও। সনদে স্বাক্ষরের পর তিনি বলেন, “এই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।”
অংশ না নেওয়া দলগুলোর অবস্থান
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য তারা এখনও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। তবে দাবি না মানলে ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, এনসিপির অবস্থান “ভুল বোঝাবুঝির ফল” এবং আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থা রেখেই আমরা সনদে সই করেছি। বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তা জাতির সঙ্গে গাদ্দারি হবে।”
অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষ
সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে কয়েকশ মানুষ সনদের সংশোধন ও স্থায়ী স্বীকৃতি দাবিতে বিক্ষোভ করেন। দুপুরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে; আহত হন কয়েকজন। পরে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্ষোভের মুখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন করে। এতে “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ” শব্দবন্ধ যোগ করে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এনসিপির দাবি ও ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত
অনুষ্ঠানে যোগ না দিলেও এনসিপি বলেছে, সনদের আইনি ভিত্তি, গণভোট ও আপত্তির বিষয়গুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনা চালিয়ে যাবে। আখতার হোসেন জানান, “দাবি পূরণ হলে পরবর্তীতে এনসিপিও সনদে স্বাক্ষর করবে।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণ না করা দলগুলোর অনুপস্থিতি প্রশ্ন তুলেছে “জাতীয় ঐকমত্য” আসলেই কতটা পূর্ণাঙ্গ হলো তা নিয়ে।
