যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে শুক্রবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে অন্তত ১০ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা।
তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে পাকতিকা প্রদেশের তিনটি স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আফগানিস্তান এর প্রতিশোধ নেবে।”
প্রাদেশিক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, হামলায় ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের ‘কাপুরুষোচিত’ সর্বশেষ বিমান হামলায় পাঁচ বেসামরিক নাগরিক ও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা তিনজন খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। আরও সাতজন আহত হয়েছেন। এসিবির ভাষায়, “এটি আফগানিস্তানের ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রিকেটের জন্য এক বড় ক্ষতি।”
অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় তারা ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)–সম্পর্কিত হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ। পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এই গ্রুপটি সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এক সামরিক ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে সাত আধাসামরিক সেনাকে হত্যা করেছিল।
কাবুল অবশ্য পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আফগান সরকার বলছে, তারা কোনো টিটিপি-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয় না।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি আফগান প্রতিনিধি দল দোহায় পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও গোয়েন্দাপ্রধান জেনারেল আসিম মালিকও আলোচনায় যোগ দিতে দোহায় গেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সফর শেষে কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে সহিংসতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। আফগান বাহিনী পাকিস্তানের দক্ষিণ সীমান্তে আক্রমণ চালালে ইসলামাবাদ কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলার আগ পর্যন্ত সীমান্তে অন্তত ৩৭ জন নিহত ও ৪২৫ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি উভয় দেশকেই স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষে উভয় দেশের কয়েক ডজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরপর গত বুধবার দুপুরে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান জানায়, যুদ্ধবিরতি ৪৮ ঘণ্টা চলবে, তবে কাবুলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “যতক্ষণ পাকিস্তান তা ভঙ্গ না করছে, যুদ্ধবিরতি ততক্ষণ কার্যকর থাকবে।”
