ভারতের মুম্বাইয়ে তরমুজে বিষ মিশিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আবদুল্লাহ ডকাডিয়ার পরিবারের ওই চার সদস্য সাধারণ কোনো খাদ্য বিষক্রিয়ায় নয়, বরং তরমুজে থাকা ইঁদুর মারার বিষের প্রভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুসলিম পরিবারের প্রধান ৪৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ, তাঁর স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই কিশোরী কন্যা জয়নব ও আয়েশার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার দিন রাতে আবদুল্লাহ ডকাডিয়া তাঁর বাড়িতে আত্মীয়দের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে অতিথিদের মাটন পোলাও পরিবেশন করা হয়। তবে যারা পোলাও খেয়েছিলেন, তাঁদের কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। আত্মীয়রা বিদায় নেওয়ার পর রাত ১টার দিকে ওই মুসলিম পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোর ৫টা থেকে সবার তীব্র বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চারজনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় ভুক্তভোগীদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করতে দেখা গেছে, যা বিষক্রিয়ার অকাট্য লক্ষণ। চিকিৎসকরা তাঁদের শরীর এবং ওই তরমুজের নমুনায় ‘জিঙ্ক ফসফাইট’ নামক একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিকের সন্ধান পেয়েছেন। এই রাসায়নিকটি মূলত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরিবারটি যে তরমুজটি খেয়েছিল, তাতে এই বিষের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। মুসলিম এই পরিবারটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে তরমুজে বিষ ঢুকিয়েছিল কি না, তা নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে। পুলিশ ইতিমধ্যে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে এবং ওই রাতে উপস্থিত থাকা অতিথিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। এই পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো মুম্বাই জুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
