ভোলার চরফ্যাশনে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার মক্তব দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নের আমিনপুর গ্রামে কাকরাইল জামে মসজিদসংলগ্ন ওই মক্তব ঘরটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে ইউএনডিপি ও মুসলিম এইডের সহযোগিতায় ঘরটি নির্মিত হয়। শুরু থেকেই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করে আসছিলেন। মাঝে মাঝে সরকারি “একটি বাড়ি একটি খামার” প্রকল্পের সভাও এখানে অনুষ্ঠিত হতো।
কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা—সোহরাব রাঢ়ী, বনি আমিন দালাল, জাকির রাঢ়ী, জাকির হাওলাদার, বাবুল মুন্সী ও ইসমাইল সিকদার—ঘরটি দখল করে সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহের বলেন,
“ঘরটি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিছুদিন আগে কয়েকজন এসে সেটি দখল করে নেয়। এখন আমরা মসজিদের ভেতরে সকালে মক্তবের পাঠদান চালাচ্ছি। আমরা চাই, ঘরটি আবার শিশুদের কুরআন শিক্ষার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন,
“সরকারি সহায়তায় নির্মিত একটি ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা অনৈতিক ও ধর্মীয় অবমাননার শামিল।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি বশির আহম্মেদ দাবি করেন, “ঘরটি আগে আওয়ামী লীগ দখল করে রেখেছিল। স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেটি পরিষ্কার করে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করছেন, দখল করেননি।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি সামছুল হক বলেন, “ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন আর সেখানে কেউ বসে না, শুধু কয়েকটি চেয়ার ও পোস্টার রয়ে গেছে। আশা করছি শিগগিরই মক্তবটি পুনরায় চালু হবে।”
চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
