ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট তাদের প্রাপ্ত ৭৭ আসনের বিপরীতে মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে এককভাবে ৬৮টি আসনের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ১২টি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও তারা ৯টি আসন গ্রহণ করছে। বাকি ৩টি আসন জোটের শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। শরিক দলগুলোর মধ্যে এনসিপি, জাগপা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পাবে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম এবং আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি। এ ছাড়াও অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম থেকে মেরিনা সুলতানা, সিলেট থেকে মাহফুজা খানম ও বগুড়া অঞ্চল থেকে সাজেদা সামাদের নাম রাখা হয়েছে। বিশেষ সম্মাননা হিসেবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগমকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জোটের শরিকদের মধ্যে জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান, এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিমের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্বতন্ত্রভাবে পাওয়া ৬টি আসনের বিপরীতে আরও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে, যেখানে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার যোগ্যতার ভিত্তিতে অত্যন্ত কঠোর যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং কোনো বিশেষ কোটা রাখা হয়নি। এর ফলে দলীয় আমিরের স্ত্রী সাবেক এমপি হওয়া সত্ত্বেও এবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। একইভাবে মীর কাসেম আলীর মেয়ে সুমাইয়ার নাম বিবেচনায় থাকলেও তাঁর ভাই বর্তমানে সংসদ সদস্য থাকায় পরিবারের একাধিক সদস্যকে সুযোগ না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০ এপ্রিল এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
