শাপলা’ প্রতীককে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও **নির্বাচন কমিশন (ইসি)**র মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন অচলাবস্থা। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের গড়া এই নতুন দল জানিয়েছে— শাপলা প্রতীক না পেলে তারা নিবন্ধন নেবে না এবং নির্বাচনে অংশ নেবে না।
ইসি তাদের নির্ধারিত তালিকার বাইরে কোনো প্রতীক বরাদ্দ দিতে রাজি নয়। কমিশনের মতে, তফসিলভুক্ত নয় এমন প্রতীক দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। এনসিপি এখনো তালিকার প্রতীক থেকে পছন্দ জানায়নি, ফলে ইসি নিজস্ব নিয়মে তাদের প্রতীক নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুই পক্ষের ‘নো রিটার্ন পজিশন’ আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জটিল করে তুলতে পারে। তারা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এই বিতর্ক ঘিরে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা এনসিপি গঠন করে। দলটি শুরু থেকেই ‘শাপলা’কে দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি জানিয়ে নিবন্ধনের আবেদন করে।
ইসির সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এনসিপি বিকল্প হিসেবে ‘কলম’ ও ‘মোবাইল’ প্রতীকও উল্লেখ করেছিল, তবে পরে তা সংশোধন করে শুধু ‘শাপলা’ রাখে। কমিশন দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এনসিপির নিবন্ধন অনুমোদন করলেও প্রতীক নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
ইসির দাবি, ২৪ সেপ্টেম্বর ঘোষিত নতুন প্রজ্ঞাপনে ‘শাপলা’ ও ‘দোয়েল’ প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই সেগুলো এখন বরাদ্দযোগ্য নয়। এনসিপি লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে— কোন নীতিমালা বা আইনের ভিত্তিতে এই প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন,
“শাপলা ছাড়া অন্য প্রতীক আমরা নেব না। আইন অনুযায়ী কমিশনের তা দেওয়ারই কথা। প্রয়োজনে রাজপথে নামব।”
অন্যদিকে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন,
“নির্বাচন কমিশন এখনো স্বৈরাচারী কায়দায় চলছে। বর্তমান কমিশন নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে না।”
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন,
“শাপলা প্রতীক বর্তমান বিধিমালায় নেই, তাই বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। এনসিপিকে সময় দেওয়া হয়েছিল, এখন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি যদি শাপলা না পেয়ে নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী একটি দলের অনুপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,
“কমিশন চাইলে বিদ্যমান বিধির আওতায় শাপলা দিতে পারে। না দিলে কেন দেবে না, সেটিও ব্যাখ্যা থাকা উচিত। রাষ্ট্রকেও স্পষ্ট করতে হবে— শাপলা প্রতীকের বিষয়ে তাদের অবস্থান কী।”
এখন নজর সবাই রাখছে ইসির পরবর্তী সিদ্ধান্তে— যা নির্ধারণ করতে পারে শুধু এনসিপির ভবিষ্যৎ নয়, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সামগ্রিক গতি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথও।







