দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুম সংক্রান্ত দুই মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আজ (বুধবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হবে। গত ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক এবং র্যাবের তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরোয়ানা কার্যকরের পর সেনাবাহিনী সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বাহিনীতে কর্মরত ১৫ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এলপিআরে থাকা মেজর জেনারেল কবীরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন,
> “সেনাবাহিনী বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে — নো কম্প্রোমাইজ উইথ ইনসাফ। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় সত্য প্রকাশ পাবে।”
তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্যান্টনমেন্টের এমইএস বিল্ডিং-৫৪ কে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির না হলে আইন অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমে আত্মসমর্পণের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। তারা উপস্থিত হলে ট্রাইব্যুনাল চাইলে জামিন দিতে বা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কেবল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী সম্ভব। বাংলাদেশের অন্য কোনো সাধারণ আইন, এমনকি সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীর নিজস্ব আইনে এমন বিধান নেই। এই আইনটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত একটি বিশেষ আইন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) ও টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই)-এর মাধ্যমে সংঘটিত ৩৪টি গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে টিএফআই সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে ১৭ জন এবং জেআইসি সেলে নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জন আসামি রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে এর আগেই তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে আদালত তা আমলে নেয়।
