প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেও যা করতে পারেননি, তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনা তা করে গেছেন। ইউনিক ফর্মুলায় শেখ হাসিনা বাকশালের বাস্তবায়ন করেছেন।”
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাকশালের রূপ ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য ছিল এক—একক বয়ানের মাধ্যমে পুরো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা। তাঁর ভাষায়,
“শেখ হাসিনার বাবা বাকশাল কায়েম করেও যা পারেননি, শেখ হাসিনা তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তখনকার মতোই সব সংবাদমাধ্যম এক সুরে কথা বলেছে। ইউনিক ফর্মুলায় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনা।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সময় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনার কোনো সাহস দেখা যায়নি।
“ইংরেজিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লেখার মতো কেউ ছিল না। একটা ইংরেজি পত্রিকাও তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়নি,”—বলেন শফিকুল আলম।
প্রেস সচিবের মতে, শেখ হাসিনার সময় গণমাধ্যমের ওপর একক বয়ান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনো ভিন্নমত প্রকাশ পেলেই সেটাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো।
“একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবাদ করা ছিল ন্যায়ের অংশ, অথচ শেখ হাসিনা সেটাকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এসব ইতিহাস লিখে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব,” তিনি যোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দমন-নিপীড়নের বাস্তবচিত্র প্রকাশ করা ছিল কঠিন কাজ।
“ফ্যাসিবাদী আমলে সব গণমাধ্যম এক সুরে কথা বলতো। সেই সময় নয়া দিগন্ত যে দাঁড়িয়ে ছিল—সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় জিহাদ।”
শফিকুল আলম শেষ বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের সব ঘটনাবলি ও বাস্তবতা লিপিবদ্ধ করা উচিত, যাতে ইতিহাস সত্যভাবে সংরক্ষিত থাকে।
