রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে একজন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকে মেট্রোরেল সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কখন পুনরায় চালু হবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যায়নি। ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে না।
এর আগে, গত বছর সেপ্টেম্বরে ফার্মগেট এলাকাতেই আরেকটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনার পরও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

প্রকৌশল সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের উড়াল পথের পিলারের নিচে রাবারের তৈরি বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হয়, যা ভারসাম্য রক্ষা ও কম্পন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি প্যাডের ওজন প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি। এগুলোর মধ্যে একটি খুলে নিচে পড়ে গেলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিয়ারিং প্যাড ট্রেন চলাচলের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা স্থানচ্যুত হলে উড়াল সেতুর অংশ দেবে যেতে পারে বা ট্র্যাক সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের ঘটনায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল। তখনও বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, যা নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একই সমস্যা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় মেট্রোরেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। একইসঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।







