ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গত ৩৫ বছরের আয়-ব্যয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন নবনির্বাচিত নেতারা। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকার পর নতুন করে নির্বাচিত হলেও এখন ডাকসু কার্যক্রম চালাচ্ছে একেবারে শূন্য তহবিলে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ডাকসু ও হল সংসদের জন্য মোট ৩৬ লাখ ৬ হাজার টাকা ফি প্রদান করে—যার অর্ধেক ডাকসুর এবং বাকি অর্ধেক হল সংসদের জন্য নির্ধারিত। সেই হিসাবে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ডাকসুর হিসাবের খাতে থাকার কথা থাকলেও চলতি অর্থবছরে ডাকসুর বাজেট বরাদ্দ মাত্র ৩০ লাখ টাকা। বাকি অর্থের গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ও ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন বলেন, “বিব্রতকর বিষয় হলো, ডাকসুর নামে কোনো আলাদা ব্যাংক হিসাব নেই। ব্যক্তিগতভাবে খরচ করে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে ডাকসুর ফি ‘নিজস্ব আয়’ হিসেবে ধরা হয়, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে ঘাটতি তৈরি করছে।”
এদিকে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, “আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য হাতে নেই। ডাকসু ও হল সংসদ বাবদ কত টাকা জমা হয়েছে এবং কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব তৈরি করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হবে।”
নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, “১৯৯০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যে টাকা দিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রশাসনের কাছে চেয়েছি। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের অডিট রিপোর্টও দাবি করেছি। তিন সপ্তাহ আগে চিঠি দিলেও এখনো কোনো জবাব পাইনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হিসাব গোপন করছে। “শিক্ষার্থীদের টাকায় অন্য খাতে ব্যয় হলে তারও জবাবদিহি থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিতেও বাধ্য হবো,” বলেন তিনি।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ জানান, “আমরা এখনো কোনো বাজেট পাইনি। ডাকসুর একাউন্টে এক টাকাও নেই। বাধ্য হয়ে স্পনসরদের সহায়তায় কার্যক্রম চালাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে বারবার চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া পাইনি।”
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্যদের অভিযোগ, নির্বাচনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও আলাদা তহবিল গঠনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ফলে সমস্ত কার্যক্রম এখন চলছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা স্পনসর সহায়তায়।
এ অবস্থায় তিন দফা দাবিতে রোববার বিক্ষোভ মিছিল ও রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে ডাকসু। দাবিগুলো হলো—
১. ডাকসু ও হল সংসদের অতীতের সব ফান্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ ও স্বচ্ছ বাজেট উপস্থাপন,
২. নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে টোকাই, ভবঘুরে ও মাদকচক্র নির্মূল,
৩. ‘খুনি হাসিনার পক্ষে’ মিছিলে অংশ নেওয়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার রুহুল আমিনসহ ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপসারণ ও বিচার।
ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সব হলের শিক্ষার্থীদের রোববার প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
