অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রায় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক কথিত ‘জ্বীনের বাদশা’কে আবারও গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–৮ এর ভোলা ক্যাম্পের সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. জাহাঙ্গীর মাঝি (৫৭)।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকারহাট বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব–৮ ভোলা ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, জাহাঙ্গীর মাঝি মূলত ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চর কালিদাস গ্রামের আজগর মাঝির ছেলে। তিনি নিজেকে কখনো জ্বীনের বাদশা, আবার কখনো আধ্যাত্মিক সাধক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর মাঝি ও তার সহযোগীরা ভুয়া নাম–ঠিকানা ব্যবহার করে অনলাইনে “পারিবারিক সমস্যা সমাধান” ও “বশীকরণ” সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দিতেন। এসব বিজ্ঞাপন দেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, এবং তারা নানা অজুহাতে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাদেকনগর এলাকার বাসিন্দা মো. দিদারুল আলম অনলাইনে এমন একটি বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা জানানোর পর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বাধীন প্রতারকচক্র তাকে “বশীকরণ তাবিজ” ও “জ্বীনের সাহায্যে সমাধান” দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা নেয় তারা।
দিদারুল আলম টাকা ফেরত চাইলে প্রতারকরা হুমকি দিতে শুরু করে। পরে তিনি বিষয়টি র্যাবকে অবহিত করলে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জাহাঙ্গীর মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর মাঝির বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তার সহযোগীদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
