রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এহসানউল্লাহ। বুধবার সকাল থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন ডাকযোগে পাঠানো তার ছুটির আবেদনটি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেনি।
২০তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা পুলিশ একাডেমির অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশ একাডেমির অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস শাখার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল থেকে ডিআইজি এহসানউল্লাহ কর্মস্থলে ছিলেন না। পরদিন তিনি ডাকযোগে ছুটির আবেদন পাঠালেও সেটি গৃহীত হয়নি। তিনি কেন হঠাৎ কর্মস্থল ত্যাগ করলেন সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বিশেষ তদন্ত দল ঢাকা থেকে সারদা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছালে বিষয়টি বুঝতে পেরে মোটরসাইকেলযোগে সেখান থেকে দ্রুত চলে যান ডিআইজি এহসানউল্লাহ।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও এআইজি এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, তিনি শুনেছেন ডিআইজি এহসানউল্লাহ দুই দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রসঙ্গে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব তদন্ত সংস্থা রয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করছে।
ডিআইজি এহসানউল্লাহর এভাবে নিখোঁজ হওয়া বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসতে পারে।
