আগামী জাতীয় নির্বাচনে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনো নির্ধারণ না হওয়ায় জোটে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। শরিকদের অভিযোগ, তাদের নজর থাকা আসনগুলোতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সহযোগিতা না করায় জোটের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, আসন সমঝোতা চূড়ান্তে দেরি হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত মানাতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করেছে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শরিকরা দ্রুত আসন বণ্টনের ঘোষণা ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার নিশ্চয়তা চাইবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তবে আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। জমিয়ত অন্তত ১২টি আসন দাবি করেছে, কিন্তু বিএনপি সর্বোচ্চ ৫টি আসনে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিয়তের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বিএনপির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক (সিলেট-৫), মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (নীলফামারী-১), কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী (সিলেট-৪), জুনায়েদ আল হাবিব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মনির হোসেন কাসেমী (নারায়ণগঞ্জ-৪), মোখলেছুর রহমান চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ-১), শোয়ায়েব আহমদ (সুনামগঞ্জ-২) ও তালহা ইসলাম (নড়াইল-২)।
জমিয়তের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। তাদের দাবি, জোটে যাওয়ার আগে অন্তত ১২টি আসনে ছাড় নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জোটে না যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, “বিএনপির সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে, আলোচনা এখনো চলছে। আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন চেয়েছি। চাহিদামতো আসন না পেলে জোটে না যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছি।”







