একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ভাষণ পরিবর্তন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত ৮ দল। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেছে, কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টাকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন—যারা বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করছেন। এসব উপদেষ্টাকে অপসারণ এবং প্রশাসনে নিরপেক্ষ, সৎ ও জবাবদিহিতার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদ বিষয়ে যে আদেশ দিয়েছেন, সেটি তারা মেনে নিচ্ছেন। তবে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ থেকে বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে—এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
ডা. তাহের জানান, ১৬ নভেম্বর আট দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সার্বিক করণীয় নির্ধারণ করা হবে। আগের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকার বাইরে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলছে। তবে যমুনার সামনে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
তিনি বলেন, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি জাতির প্রত্যাশা ছিল—তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষায় অটল থেকে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু সরকার কমিশনের সুপারিশ পরিবর্তন করেছে একটি বিশেষ দলের স্বার্থে, যা জনগণকে হতাশ করেছে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তিনজন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টাকে ‘মিসগাইড’ করছেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন—জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, যা বিএনপি অতীতে চায়নি।
ডা. তাহের দাবি করেন, গণভোটে চারটি আলাদা পয়েন্টে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণকে ঝুঁকিতে ফেলবে। বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার অযৌক্তিকভাবে প্রস্তাবগুলোকে চার ভাগে ভাগ করেছে, যা তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন জরিপসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মতামতে দেখা গেছে—প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গণভোট আলাদাভাবে আয়োজনের পক্ষে। জনগণ ও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীও একই দাবি করেছে। কিন্তু বিএনপি চেয়েছে গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে হোক—কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিরূপ মনোভাব থেকে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চায়।
ডা. তাহের বলেন, গণভোট সংস্কারের বিষয়ে, আর জাতীয় নির্বাচন সরকার গঠনের জন্য—দুই বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। একই দিনে দুই ভোট হলে গণভোটে আগ্রহ কমে যাবে এবং এর সুযোগ নিয়ে বিএনপি চাইবে সংস্কার নাকচ হোক। তিনি এটিকে ‘ফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে সরকার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় পা দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার একটি দলের প্রতি দুর্বলতা দেখাচ্ছে—লন্ডনে গিয়ে হঠাৎ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ও রোডম্যাপ প্রকাশই তার প্রমাণ। এতে সন্দেহ তৈরি হয়েছে—সরকার নিরপেক্ষ রয়েছে কি না।
তিনি আরও বলেন, আট দল রোজার আগেই ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন চূড়ান্ত করার বিষয়ে অটল। কিন্তু ১৫ বছরের মতো এবারও জনগণ ভোট দিতে পারবে কি না—সে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনে কিছু উপদেষ্টার প্রভাবে দলীয়করণ হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং ডেভেলপমেন্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







