রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামি ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘নবীনবরণ–২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো একই মঞ্চে উপস্থিত হন ডাকসু, চাকসু ও রাকসুর নির্বাচিত ভিপিরা। শনিবার কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও নানা পরামর্শ দেন।
নবীনবরণে বক্তারা অতীত ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস, রাবির আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ছাত্রসংগঠনগুলোর আদর্শ, ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তারা সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক ক্যাম্পাস গড়ার আহ্বান জানান। বক্তব্যে ১৯৬৯ ও ১৯৮২ সালের ঘটনাবলি, দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্য ও নেতৃত্ব গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি ১৯৮২ সালের ১১ মার্চের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা স্মরণ করে বলেন, সেদিনের হামলায় শিবিরের শহীদ ছাব্বিরসহ কয়েকজন নিহত হন। তিনি ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে শহীদ শামসুজ্জোহা স্যারের অবদানও স্মরণ করেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরও প্রত্যাশিত পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিবন্ধকতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রাবি শাখা শিবির সভাপতি ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ১৯৮২ সালের নবীনবরণ বিতর্কিত হওয়ার পর তার সংগঠনের চারজন কর্মী নিহত হন। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের ভেতরে বড় পরিসরে নবীনবরণ আয়োজন এবারই প্রথম সম্ভব হয়েছে এবং এতে নারী শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পেরেছেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকারের সময় শিবিরের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, শিবির সবসময় ন্যায় ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান করেছে। অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে তাদের ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিগত সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, মিডিয়া ট্রায়াল ও অধিকারবঞ্চনার অভিযোগ উল্লেখ করেন। নবীনদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক চর্চা বিকশিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন রাবি শিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোহাইমিন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন।
