বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাত সোয়া ৭টার দিকে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাসের হেলপার ও সুপারভাইজারের হাতে বিএম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্কর লাঞ্ছিত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ আরও প্রকট হয়। এতে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একাধিক পরিবহনের কাউন্টার, অর্ধ শতাধিক বাস ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের হামলায় তাদের ২০ জনের বেশি সহকর্মী আহত হয়েছে। নথুল্লাবাদ বাসমালিক গ্রুপ জানায়, কয়েক হাজার শিক্ষার্থী একযোগে আক্রমণ চালায়, ফলে টার্মিনাল ভবন পর্যন্ত ভাঙচুরের মুখে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সংঘর্ষের কারণে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কয়েকটি বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
