অবরুদ্ধ গাজাকে ‘গ্রিন জোন’ ও ‘রেড জোন’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘গ্রিন জোনে’ ইসরাইল ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর নিরাপত্তায় পুনর্গঠন শুরু হবে, আর ‘রেড জোনে’ কোনো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেই। বর্তমান ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত ‘ইয়েলো লাইন’ ধরে সমগ্র গাজা উপত্যকা এভাবে ভাগ করা হবে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, রেড জোনে কী থাকবে বা কারা দায়িত্বে থাকবে—তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘‘নীতিগতভাবে পুরো এলাকাকে এক করা উচিত, কিন্তু তা এখনই সম্ভব নয়। এতে আরও সময় লাগবে।’’
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এটি ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’—এক ধরনের বিভক্ত গাজা, যেখানে ইসরাইলের আক্রমণ অব্যাহত থাকবে, দখলদারত্ব আরও শক্ত হবে, ফিলিস্তিনিদের আত্মশাসন থাকবে না এবং বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ সীমিত পরিসরে হবে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তার কেন্দ্রবিন্দু হলো—গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন করা। এই বাহিনী গাজার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আগামী সপ্তাহেই আইএসএফ অনুমোদনের একটি খসড়া প্রস্তাব পাস করুক। অনুমোদন পেলে কোন দেশ কত সৈন্য দেবে—তা নির্ধারণ সহজ হবে। ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের জন্য তিনি মার্কিন সৈন্য পাঠাবেন না এবং পুনর্গঠনের খরচও বহন করবেন না।
ইন্দোনেশিয়ার ২০ হাজার সৈন্য প্রস্তুত
ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিতে তারা ২০ হাজার সৈন্যকে প্রস্তুত রেখেছে। এসব সেনা মূলত স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণকাজে যুক্ত হবে বলে জানান দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাজাফ্রি সাজামসোয়েদ্দিন। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গাজায় বর্জ্যের স্তূপ
গাজা উপত্যকাজুড়ে প্রায় ৭ লাখ টন কঠিন বর্জ্য জমে মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে গাজার মিউনিসিপ্যাল ইউনিয়ন। জ্বালানি সংকট, অবকাঠামো ধ্বংস ও সরঞ্জাম সংকটের কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম সেবাও দিতে পারছে না।
ইউনিয়নের উপপ্রধান আলা আল-বাত্তা বলেন, ‘‘অবকাঠামোর বিশাল ক্ষতি, জ্বালানির ঘাটতি এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা অচল অবস্থায় আছি।’’
তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস পার হলেও গাজার সেবার মানে কোনো উন্নতি হয়নি।







